শীর্ষ সংবাদ- অর্থ ও বাণিজ্য সংবাদ

রিজার্ভ ভেঙে লভ্যাংশ দিচ্ছে ডিএসই

14-03-2016 | bdcurrentnews

রিজার্ভ ভেঙে লভ্যাংশ দিচ্ছে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির ২৫০জন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভাংশ দেয়ার বিষয়ে গত ৩ মার্চ সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পর্ষদ। যা আগামী ২৪ মার্চ ডিএসইর এজিএমে উপস্থাপন করা হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অব্যাহত মন্দার ও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগের অদক্ষতার ফলে ভালো মুনাফা না করতে পারায় আগের বছরের লভ্যাংশ থেকে লভ্যাংশ দিচ্ছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত এ লভ্যাংশ দেয়া হবে। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হওয়া ডিএসইর এটি প্রথম লভ্যাংশ ঘোষণা। যা শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ মার্চ ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উপস্থাপন করা হবে। এজিএমটি অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিএসইর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৫ টাকা। এ হিসাবে ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে নিট আয় হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আর ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১১.৬৭ টাকায়। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএসইর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ প্রদান করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১৩৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা মুনাফাসহ রিজার্ভ থেকে ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা দিতে হবে। আগের হিসাব বছরে ডিএসইর এ আয়ের পরিমাণ ছিল ০.৭৪ টাকা। ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি নিট আয় করে ১৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ডিএসইর আয়ের মূল উৎস হচ্ছে লাগা চার্জ, হাওলা চার্জ ও তালিকাভুক্তি ফি। তবে কোম্পানিটি ডিপোজিটের সুদ থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। ব্যাংকের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণে আগের বছরের তুলনায় এ খাত থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয় কমেছে। জানা গেছে, পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় লাগা এবং হাওলা চার্জ থেকে আয় কমেছে। পাশাপাশি সুদবাবদ আয়ও কমেছে। তারপরও আগের হিসাব বছরের তুলনায় আয় সামান্য বেড়েছে। মূলত ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করায় নিট আয় বা ইপিএস বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ডিএসইতে মোট লেনদেন (টার্নওভার) হয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকার। ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে এর পরিমাণ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৫১ কোটি টাকার। এ বিষয়ে ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যবসায়িক মন্দাবস্থা চলছে। ১০ শতাংশ লভ্যাংশ পেলে কিছুটা সহায়ক হবে। যা শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, লেনদেন ও ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণে ডিএসইর আয় বাড়ানো ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তারপরও ডিএসইর আয় বেড়েছে। ডিএসইর অফিসিয়াল ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে এ আয় বেড়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ কারণে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা উচিত।

সকল সংবাদ -অর্থ ও বাণিজ্য সংবাদ