শীর্ষ সংবাদ- অর্থ ও বাণিজ্য সংবাদ

রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

24-03-2016 | bdcurrentnews

অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রথম গ্রেডে পৌঁছতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের দ্বিতীয় গ্রেডে কমপক্ষে দু’বছর অবস্থান করতে হবে। এছাড়া যোগ্যতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের চাকরির মেয়াদ মোট ২০ বছর হতে হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় গ্রেডে পৌঁছতে একজন অধ্যাপককে তৃতীয় গ্রেডে চার বছর চাকরি করতে হবে। একই সঙ্গে স্বীকৃতি কোনো জার্নালে তার দুটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ থাকতে হবে। তবে উভয় গ্রেডে পদোন্নতি হবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টানা এক বছরের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটেছে। বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যত অধ্যাপক আছে তার থেকে ২৫ শতাংশ প্রথম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন। আর তৃতীয় গ্রেডে থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে যাবেন মোট অধ্যাপকের ৫০ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধি মিলে আজকের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল উঠে যাওয়ায় এখন এই সুবিধা পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে আজকের এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। বৈঠকে সিনিয়র সচিব পর্যাদায় সুপার গ্রেড নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, এ বিষয়টি আরো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস মাকসুদুল কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই সুবিধা অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে দেয়া হয়নি। আজকের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের ফসল অর্জন হয়েছে। জানা গেছে, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উল্লিখিত সুবিধা দেয়া ছিল না। কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সরকার বৈতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। এই কমিটি ইতিমধ্যে চার দফা বৈঠক করেছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি টানা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, ইআরডি সচিব মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। স্বাধীনতা পুরস্কারের প্রতিক্রিয়া: এদিকে অর্থমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ পদকের জন্যই তো বেঁচে আছি।’ পুরস্কার পাওয়া সম্মানী (অর্থ) কোন খাতে ব্যয় করবেন জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো সেভাবে চিন্তা করিনি। এটি ভেবে বলতে হবে। দিনটি উপলক্ষে বাসায় বিশেষ কোনো কিছু রান্না বা কোনো আয়োজন ছিল কিনা জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ হাসিতে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘তা তো কিছু ছিলই। পুরস্কার পাওয়া উপলক্ষে ভাবির কাছ (অর্থমন্ত্রীর স্ত্রী) থেকে কোনো উপহার পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রীর মুখে ছিল শুধুই হাসি। এ সময় স্বাধীনতা পদকটি তার গলায় ঝোলানো ছিল। পাঞ্জাবির রঙের সঙ্গে তার চেহারার মিল ছিল অপূর্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকে অর্থমন্ত্রীর ওপর দিয়ে বেশ কিছুটা ঝড় বয়ে যায়। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে যান। এমনকি, কোনো কোনো অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হননি। অবশ্য তার শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ সময় অর্থমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাত করেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এর পাশাপাশি দেখা করেন সরকারি তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন। তার গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে যাওয়া নিয়েও বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ওঠে। এমনকি এই গুঞ্জনের ডালপালা চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু গতকাল অর্থমন্ত্রী বেশ কিছুদিন পর গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হলেন।

সকল সংবাদ -অর্থ ও বাণিজ্য সংবাদ