শীর্ষ সংবাদ- অর্থ ও বাণিজ্য সংবাদ

ফেডের পর দায় নিতে সুইফটেরও অস্বীকৃতি

24-03-2016 | bdcurrentnews

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের পর এবার সুইফট কর্তৃপক্ষও দাবি করেছে তাদের সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করে রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে রিজার্ভ চুরির পুরো দায় বাংলাদেশ ব্যাংককেই নিতে হচ্ছে। যদিও এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এবং সংশ্লিষ্ট তিন ব্যাংক ওয়েলস ফারগো, ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন ও সিটি ব্যাংক নিউইয়র্কের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসিকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে আইনানুগ বিষয়গুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আমাদের তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনিই সব কিছু দেখবেন। তার নির্দেশেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, চলমান তদন্তে? ‘যথেষ্ট’ অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। তবে অগ্রগতি আছে এবং যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমদের তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত দুই দিন আমরা সব মিডিয়াকে এন্টারটেইন করতে পারিনি। যে কোনো সময়ে সব বিভাগে যাওয়ার যে সুযোগ ছিল সেটা দিতে পারিনি। আমাদের চিন্তা আছে যে, নিচতলায় একটি কমিউনিকেশন সেন্টার করব। তার আগ পর্যন্ত প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে এবং নির্দিষ্ট রেজিস্টারে ডিটেইলস জানিয়ে যেতে পারবেন। তবে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা ক্যামেরা নিয়ে আগাম অনুমোদন ব্যতিরেকে যেতে পারবেন না। তবে তারা ক্যামেরা রেখে যেতে পারবেন। টাকার উৎস ধরেই এগুচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো: রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়ার পর সে টাকা কোথায় এবং কার কাছে গেছে সেই তথ্য খুঁজছে গোয়েন্দারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ফিলিপিন্স, হংকং ও শ্রীলঙ্কার যেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে টাকা গেছে সেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, টাকার উৎস ধরে এগুলে দেশি বা বিদেশি কারা জড়িত সেটা যেমন বের হয়ে আসবে, পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পাওয়া যাবে। রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনা বাংলাদেশসহ বিশ্বের চারটি দেশের অপরাধী চক্র জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অর্থ চুরির বিস্তারিত জানতে চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ককে চিঠি দিয়েছেন দেশটির আইন প্রণেতা ক্যারোলিন ম্যালোনি। একইসঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কংগ্রেসের ফিন্যান্সিয়াল সাব-কমিটির গোপন শুনানিতে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়েছে। তবে শুনানির দিনক্ষণ নিয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের পর শ্রীলঙ্কাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। চুরি হওয়া অর্থের যে ২০ মিলিয়ন ডলার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শালিকা ফাউন্ডেশনের নামে এসেছে, বুধবার ওই প্রতিষ্ঠানের ৬ পরিচালকের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অর্থ লোপাটের দায় নিচ্ছে না সুইফট: সুইফট দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় তাদের সিস্টেমের কোনো দুর্বলতা ছিল না। তবে এই অর্থ খোয়ানোর তদন্ত এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের এই প্রতিষ্ঠানটি। সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম। সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এর সদস্য। এক দেশ থেকে আরেক দেশে সুইফটের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকে। এজন্য সুইফট প্রত্যেকটি সদস্যকে একটি নির্দিষ্ট কোড ও সিস্টেম ব্যবহারের জন্য গোপন নম্বর (পিন) দিয়ে থাকে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে সুইফট মেসেজ পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে থাকা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইন এবং শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়। এই ঘটনায় রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আর কারো দায় ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি সুইফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গোটফ্রিড লেব্র্যান্ডট এক চিঠিতে বাংলাদেশে তাদের সদস্যদের বলেছেন, তাদের সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকও তাদের সিস্টেম হ্যাক হয়নি বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে। যার অর্থ এই ঘটনার পুরো দায় বাংলাদেশ ব্যাংককেই নিতে হচ্ছে। সুইফট মেম্বার অ্যান্ড ইউজার গ্রুপ অব বাংলাদেশের মহাসচিব ও এসআইবিএল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এএমএম ফরহাদের কাছে চিঠিটি এসেছে। সুইফট তার নিরাপত্তা আরো উন্নত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের ঝুঁকি, সেবা ও সিস্টেমের বিষয়ে ব্যাপক সতর্ক জানিয়ে চিঠিতে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি প্রতিরোধে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে গ্রাহকের নিজস্ব নেটওয়ার্ক সিস্টেমের সেট আপ, মেইনটেন্যান্স ও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সুইফট সিইও। সম্প্রতি সুইফটের দুই প্রতিনিধি বাংলাদেশ ব্যাংক ঘুরে গেছেন। ওই প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, তদন্তকারী সংস্থাগুলো ও বাংলাদেশের সুইফট ইউজার গ্রুপের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তারা তদন্ত শুরুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেছিলেন, উনারা সুইফটের সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখবেন। সেখানে কোনো ত্রুটি আছে কিনা বা কোনো আপগ্রেডেশন দরকার আছে কিনা। এ ছাড়া রিজার্ভের অর্থ কিভাবে সরানো হয়েছে বা এই অর্থ সরাতে সুফইট মেসেজ কিভাবে ব্যবহার হয়েছে, সে বিষয়টিও তারা দেখবেন। শুনানিতে প্রস্তুত কিম অং: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরিতে মূল হোতা বলে অভিযুক্ত চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অং তদন্ত কমিটির শুনানিতে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ঘটনা সম্পর্কে যতটুকু জানি তার কোনো কিছুই লুকাব না। রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে ফিলিপাইনে গঠিত সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে আগামী ২৯ মার্চ বেলা ১১টায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন। ফিলিপাইনের ইনকোয়ারারে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রেস্তোরাঁর মালিক এবং জুয়া কোম্পানির অপারেটর কিম অং-কে মানি লন্ডারিংয়ের মূল হোতা বলে সিনেটের (সংসদের উচ্চ কক্ষ) সদস্য সার্জ ওসমেনা অভিযোগ করেছেন। ওসমেনার উদ্ধৃতি দিয়ে গত সপ্তাহে ইনকোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম অং-ই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) শাখা ব্যবস্থাপক দেগুয়িতিকে পাঁচটি অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেছিলেন, যার চারটিতে বাংলাদেশের চুরি হওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলার জমা হয়। আর এ অর্থ স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর করতে রেমিট্যান্স কোম্পানি ফিলরেমের কাছে পাঠাতেও বলেছিলেন কিম অং। আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক দেগুইতিও সিনেট শুনানিতে ব্যবসায়ী কিম অংয়ের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর নামে কিম অং অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বলে জানান শাখা ব্যবস্থাপক। ‘ইউলিয়াম গো’ অ্যাকাউন্ট থেকে পাচারকৃত অর্থ দেশটির বিভিন্ন জুয়ার আসরে চলে যায়। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন কিম অং। গতকাল কিম অংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমি কোথাও লুকাইনি। মেডিকেল চেকআপ শেষ করে আমি সিঙ্গাপুর থেকে বেলা ৪টায় ফিলিপাইনে পৌঁছেছি। আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপকের অভিযোগের বিষয়ে কিম অং বলেন, ধরে নিলাম, আরসিবিসির ‘উইলিয়াম গো’ অ্যাকাউন্ট থেকে পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপক কেন অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলকে অবহিত করেননি? শ্রীলঙ্কার ৬ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশনের ৬ পরিচালকের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির আদালত। শ্রীলঙ্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কলম্বোর চিফ ম্যাজিস্ট্রেট জিহান পিলাপিতিয়া দেশত্যাগে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। শ্রীলঙ্কার ইমেগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশনের মুখপাত্র লাকসন জয়সা। শ্রীলঙ্কা পুলিশ আদালতে বলেন, শ্রীলঙ্কার একটি বেসরকারি ব্যাংকে শালিকা ফাউন্ডেশন ২৮ জানুয়ারি একটি অ্যাকাউন্ট খোলে। অ্যাকাউন্ট খোলার ৬ দিন পর প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার এতে পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কা পুলিশ জানায়, নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোকে সাহায্য দেয়ার জন্য ওই ফাউন্ডেশনটি গড়ে তোলা হয়। কলম্বোর একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে এটির ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া যোগাযোগের আর কোনো ধরনের তথ্য নেই। প্রসঙ্গত, ৫ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকড হয়ে যায়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে এবং ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাচার হয়। শ্রীলঙ্কায় পাচার হওয়া অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত পেলেও ফিলিপাইনে পাচার হওয়া ৮ কোটি ১০ মিলিয়ন ডলারের কোনো হদিস নেই। তবে এ বিষয়ে ফিলিপাইনে তদন্ত চলছে।

সকল সংবাদ -অর্থ ও বাণিজ্য সংবাদ