শীর্ষ সংবাদ

তনু হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল কুমিল্লা

২৪-০৩-২০১৬  bdcurrentnews

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর খুনিদের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠছে গোটা কুমিল্লাসহ সারা দেশ। মাঠে নেমে এসেছে ভিক্টোরিয়া কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এদিকে তনুর গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে চলছে শোকের মাতম। কান্না থামছে না পুরো গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। একই সাথে বিক্ষোভ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও। এ সময় নগরীতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের সাথে যোগ দেয় কুমিল্লা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লা জেলা সদরসহ জেলার সর্বত্র ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। সবার একই দাবি অবিলম্বে সোহাগী জাহান তনুর খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরী বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ভিক্টোরিয়া কলেজের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। তিনি অবিলম্বে তনুর হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি ও বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক আলী আকবর মাসুম বলেন, তনুর হত্যার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হলো এখন আর আমরা কেউ ঘরে-বাইরে নিরাপদ না। এখন সময় এসেছে প্রশাসন রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করার জন্য নীতি ঠিক করা। নতুবা আজ সোহাগী জাহান তনু কাল আমার মেয়ে বা বোন পরশু আরেক জনেরও একই অবস্থা হবে। কুমিল্লার নারী নেত্রী দিলনাশী মোহসেন বলেন, আর কত তনুদেরকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে হবে। আমাদের সমাজ রাষ্ট্রের কি কিছুই করার নেই। আমরা নারী মুক্তির কথা বলি, নারী স্বাধীনতার জয়গান গাই অথচ তনুদের নিথর দেহ পড়ে থাকে রাস্তার ধারে। এখনি যদি এর বিহিত করা না হয় তাহলে আমরা কেউ রক্ষা পাব না। এদিকে গতকাল সকালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবদুর রব। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানান, সাংস্কৃতিক সংগঠক শহীদুল হক স্বপন, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল আজিজ সিহানু, দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, ছাত্রলীগ নেতা রোকন উদ্দিন, শাওন প্রমুখ। এদিকে নিহত সোহাগী জাহান তনুর মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সোহাগীর বাবা-মা, ভাই-বোনের কান্না মুরাদনগরের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, তনুকে যখন পাই তখন মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি আরো জানান, পরিবার-পরিজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তাই আমরা গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। তনুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী। এ সময় জেলা প্রশাসক ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দশ হাজার করে বিশ হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এক খণ্ড খাস জমি তনুর পরিবারকে দেয়ার ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। নিহতের পরিবারের সূত্র জানায়, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় সোহাগী জাহান তনুকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে সোহাগীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ২১ মার্চ নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের চার দিনেও কাউকে গ্রেফতার বা হত্যার রহস্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তনু হত্যার বিচার দাবিতে গতকালও কুমিল্লা ছাড়াও ঝিনাইদহ, মৌলভীবাজার, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

সকল সংবাদ - শীর্ষ সংবাদ