শীর্ষ সংবাদ

২২ মামলায় ২৬ জনের দণ্ড, কার্যকর ৪টি

২৪-০৩-২০১৬  bdcurrentnews

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৬ বছর পূর্ণ হলো আজ। আর এই ৬ বছরে ২২টি মামলায় ২৬ আসামিকে দণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪টির মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ১২-১৩টি মামলার বিচার কাজ চলছে। যাতে রয়েছে একাত্তরে এ দেশীয় রাজাকার আলবদর-আলশামস বাহিনীর কেন্দ্রীয় স্থানীয় নেতারা। যারা শুধু একাত্তরে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা এ জাতিকে করেছে কলঙ্কিত। জাতির শ্রেষ্ঠ বিবেক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। নারীদের ধর্ষণ করেছিল। আর এসব কলঙ্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার শুরুর লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় ২০১০ সালের এই দিনটিতে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২২ মামলায় ২৬ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ জনের রায় কার্যকর করা হয়েছে। ২ জন যুদ্ধাপরাধী সাজা ভোগরত অবস্থায় এবং একজন মামলা চলাকালীন অবস্থায় মারা যান। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান ট্রাইব্যুনালের ৬ বছর পূর্তিতে মানবকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাফল্য অনেক বেশি। যদিও ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রথম দিক দিয়ে নতুন আইন সম্পর্কে একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এটা অনভিজ্ঞতার কারণে। কারণ ট্রাইব্যুনাল আইনটি সম্পূর্ণ নতুন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি মামলায় তদন্ত করেছি। আসামিরা অভিযুক্ত হয়েছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচারকরা বিচার কাজ পরিচালনা করেছে। তদন্ত সংস্থার সার্থকতা সেখানেই। মামলার বিচার কাজ শেষ করে আসামি যদি দোষী প্রমাণ হয় এখানেই তদন্ত সংস্থা তৃপ্ত। তিনি বলেন, অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আজকে ট্রাইব্যুনালের ৬ বছর পূর্তিতে আমাদের ট্রাইব্যুনাল অনেক শক্তিশালী হয়েছে। আমরা এখানে কাজ করে গর্ববোধ করছি। প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত মানবকণ্ঠকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে শুরু থেকেই অনেকের মধ্যে নানা শঙ্কা, সংশয় ছিল। এই বিচার কাজ পরিচালনার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের বিষয়েও এই প্রশ্ন ছিল যে, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করতে পারবে কিনা। কিন্তু আজকে ট্রাইব্যুনালের ৬ বছর পূর্তি হতে চলেছে। এমন এক সময়ে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি সার্থকতার সঙ্গে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছি। এই ৬টি বছরে ২২টি মামলার ২৬ জনের বিচার কাজ নিষ্পত্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে রূঢ় মডেল হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে উঠেছে। সেক্ষেত্রে আমরাও বলতে পারি এই গৌরবে আমরাও অংশীদার। ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে আমরা যারা জড়িত তারা সবাই সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। তার ওপর ভর করেই আমরা সফলতার পথে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। আমরা যুদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। ঠিক তেমনিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের যে অসমাপ্ত কাজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এটিকেও আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধারণ করে এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছি মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বেও আমাদের জয়ী হতেই হবে। এই যুদ্ধে আমরা যতটা জয়ী হয়েছি এটি বিচারের ভাব আমরা জাতির ওপরই অর্পণ করলাম। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘আমরাও পারি’। প্রসিকিউটর মুখলেছুর রহমান বাদল বলেন, ট্রাইব্যুনালের ৬ বছর পূর্তিতে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। দীর্ঘ বছর পরে এই বিচার শুরু হয়। মামলা পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা সত্ত্বেও আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গিয়েছি। আর এর সুফলও পেয়েছি। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

সকল সংবাদ - শীর্ষ সংবাদ