শীর্ষ সংবাদ

চলছে সান্ত¡না আর বিশ্লেষণ

০১-০১-১৯৭০  bdcurrentnews

কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বাংলাদেশ-ভারতের নাটকীয়তা ভরা ম্যাচ নিয়ে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট করেছে। যেখানে একটি রিপোর্টের এক জায়গায় লেখা আছে ‘ভারত জিতেনি, বাংলাদেশ হেরেছে।’ আসলেই তাই। বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৮ বছর পর ভারতের মাটিতে খেলতে নেমে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে ম্যাচ জিততে পারেনি। তবে আরেকবার জয় হয়েছে ক্রিকেটের। জয়ের জন্য হাতে চার উইকেট নিয়ে তিন বলে দুই রানের প্রয়োজনে আর কোনো রানই করতে পারেনি মাশরাফির সৈনিকরা। তিন বলে উইকেট হারিয়েছে আবার তিনটি। যার দুটি ছিল আবার মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের ভারতকে উপহার দেয়া। সেই সঙ্গে কী জয়টাও উপহার দেয়া হয়নি। ভারতের বিরুদ্ধে এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের চেহারা-রং আরো অনেক বদলে যেত। তাসকিন-আরাফাত সানির ঘটনায় মুষড়ে পড়া বাংলাদেশের জন্য এই জয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দলের পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়কে ডেকে ভারতের বিপক্ষে জয় পেলে তাদের ঢাকা শহরে একটি করে ফ্ল্যাট দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। যেখানে মাশরাফি-সাকিব-তামিমের সঙ্গে খলনায়ক হয়ে ওঠা মুশফিক-মাহমুদউল্লাহও ছিলেন। প্রথম তিনজন নিজ নিজ অবদান রাখলেও পরের দু’জন তা পারেননি। জয় হাতছাড়া হওয়াতে সবাইকে বেশি কষ্ট দিয়েছে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক উইকেট থাকার পরও সহজ সমীকরণকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে না পারাতে। টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মুশফিকের ম্যাচের সংখ্যা আড়াইশ’ ছাড়িয়ে। মাহমুদউল্লাহর সংখ্যা দুইশ’ ছেড়েছে। সেই তারাই যদি এ রকম ভুল করেন পরপর দুই বলে তাহলে তা মেনে নেয়া যায় কিভাবে। কোচ হাথুরুসিংহ নিজেও অবাক হয়েছেন দুই খেলোয়াড়ের এই কাণ্ড দেখে। ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দেখতে আসা বিসিবির সভাপতির খুবই ঘনিষ্ঠ এক ক্রীড়া সংগঠক হোটেলে ফিরে কোচের সঙ্গে কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে জানান, হাথুরুসিংহ নিজেও অবাক হয়েছেন দলের দুই সিনিয়র খেলোয়াড়ের এ রকম ব্যাটিং দেখে। দু’জনই দলের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার। দু’জনেই ‘কুল’ হিসেবে পরিচিত। এর মাঝে আবার মাহমুদউল্লাহ একটু বেশি কুল। হাথুরুসিংহকে মুশফিকের শট যতটা না বেশি অবাক করেছে তার চেয়ে বেশি অবাক করেছে মাহমুদউল্লাহরটা। মুশফিকেরটা দেখার পরও মাহমুদউল্লাহ কিভাবে একই ভুল করল তা যেন কোচের মাথায়ই ঢুকছে না। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার থাকায় তিনি এ সময় কোনো মেসেজও পাঠানোর প্রয়োজন মনে করেননি। এর পেছনে কোচ নাকি যুক্তিও দেখিছেন তাকে। এই দু’জনই তো ম্যাচকে ‘ক্লোজ’ করেছে। তাদের মেসেজ পাঠানোর কি আর প্রয়োজন পড়ে। তবে মুস্তাফিজ নামার সময় তাকে মেসেজ দেয়া হয়েছিল যাতে শেষ বল ব্যাটে না লাগলেও যেন তিনি দৌড় দেন। শেষ তিন বলে আসামির কাঠগড়ায় মাহমুদউল্লাহ-মুশফিককে দাঁড় করালেও ১৪৬ রান তাড়া করতে নেমে তামিম-মিঠুন-সৌম্য যেভাবে মেরে খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন সেখানেও দায় খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। ম্যাচ শেষে এ নিয়েও নাকি আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে মনে হবে তারা ১৪৬ নয়, ২৪৬ রান তাড়া করতে নেমেছেন! এখানে কি তাহলে কমিটমেন্ট বা দেশপ্রেমের অভাব ছিল? খেলোয়াড়রা কি খুবই হালকাভাবে ম্যাচটাকে নিয়েছেন? এর সঙ্গে একমত হয়নি দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তারাই তো খেলে ম্যাচটাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। কমিটমেন্ট বা দেশপ্রেমের অভাব থাকলে কি ম্যাচ এরকম হতো। সে সময় ৬ হয়ে গেলে কিন্তু সবাই বাহবা দিতেন। আরো অনেক কিছুই বলতেন। এখন না হওয়াতে বিষয়টি বড় হয়ে গেছে। সবার খারাপ লাগছে। আমাদেরও খারাপ লাগছে।’ এভাবে ম্যাচ হারাতে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ সবাই খুব ভেঙে পড়েছেন বলে জানান ম্যানেজার। বিসিবির সভাপতিসহ সবাই তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে তারা ইচ্ছা করে এটি করেননি। ম্যাচ শেষে বিসিবির সভাপতি নিজে আরো কয়েকজন পরিচালকসহ খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করে তাদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করেন। এমনকি কলকাতায় আসার নির্ধারিত ফ্লাইট পরিবর্তন করে তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই ফ্লাইটে আসেন। কলকাতায় বাংলাদেশ দল আসে বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে। হোটেলে উঠতে বেজে যায় সন্ধ্যা ৬টা। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাব্বির রহমান। তিনি জানান হারের কষ্টের কথা। ড্রেসিং রুমের পরিস্থিতির কথা। সাব্বির বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও এ রকম ম্যাচ হেরে যাওয়াতে অনেক কষ্ট পেয়েছি। অন্য সব ম্যাচে হারের পর ড্রেসিং রুমের যে অবস্থা থাকে এবার হারের পর ছিল অন্যরকম।’ কেউ শুয়ে কেউ বসে আছেন বিধ্বস্তভাবে। কথা বলা হচ্ছে কম। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর অবস্থা ছিল বেশি কাহিল। সাব্বির জানান, যা হওয়ার হয়ে গেছে। সব ভুলে তারা আগামীকাল নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সুখস্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরতে চান।

সকল সংবাদ - শীর্ষ সংবাদ