শীর্ষ সংবাদ - খেলার সংবাদ

আবারো জাতীয় দলে ফিরতে চান তৌহিদ

24-03-2016 | bdcurrentnews

বয়সভিত্তিক কোনো পর্যায়েই খেলতে হয়নি মো. তৌহিদুল আলম তৌহিদকে। নিঃসন্দেহে মেধাবী এবং প্রতিভাবান ফুটবলার বলেই সরাসরি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ওঠে তার। ২০১১ সালে দিল্লি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে বড় মঞ্চে যাত্রা শুরু হয়। এরপর মাঝেমধ্যেই খেলেছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে। সবশেষ খেলেছেন গত বছর। ভারতের বিপক্ষে গোয়ায়। এরপরই আর জাতীয় দল থেকে ডাক আসেনি। তবে পারফরম্যান্সের জন্য যে জাতীয় দলে জায়গা হয়নি তা কিন্তু নয়। ঘরোয়া লিগের মারপ্যাঁচে পড়ে ঠিকমতো খেলার সুযোগ না পেয়ে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। বয়স অল্প। তার ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার দৃঢ়কণ্ঠে ব্যক্ত করেছেন তৌহিদ। পুনরায় জাতীয় দলে ফিরে আসা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আবাহনীতে টানা বছর খেলেছি। গত বছর খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। যে ক’টি খেলেছি তাতে ভালো পারফরম্যান্স ছিল। কিন্তু কোচ যে কেন খেলায়নি সেটা আমি ঠিক বুঝি উঠতে পারছি না। যাই হোক যেটা চলে গেছে, সেটা নিয়ে আর ভাবতে চাই না। এবার মুক্তিযোদ্ধায় সংসদ ক্রীড়াচক্রে এসেছি। এখানে ভালো খেলে আবারো জাতীয় দলে ফিরতে চাই।’ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কৃতী সন্তান তৌহিদ। কৃতী বলার কারণ ওই এলাকার একমাত্র ফুটবলার তিনি, যিনি কিনা জাতীয় দলে দেশের এবং নিজ জেলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জেলার মানুষ তৌহিদের খেলার দারুণ ভক্ত। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বোয়ালখালীর মানুষের আশা আছে আমি আবারো জাতীয় দলে খেলব এবং সেটা দীর্ঘমেয়াদেই খেলব। আমি আমার এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অবশ্যই পূরণ করব।’ ফেনী সকার ক্লাব দিয়ে পেশাদার লিগ ফুটবলে যাত্রা শুরু তৌহিদের। তার আগে অবশ্য বিয়ানীবাজার এবং ফকিরেরপুলে (ক্যাম্প) খেলেছেন। ফেনীতে দারুণ খেলেই দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিংয়ে আসেন। মোহামেডানের হয়ে সুপার কাপ জয়ে দারুণ অবদান রাখেন। তৌহিদ শুধু একজন ভালো স্ট্রাইকারই নন, লেফট উইংয়েও দারুণ খেলেন। মোহামেডানের পর টানা চার মৌসুম খেলেছেন দেশের আরেক বৃহত্তর ক্লাব ঢাকা আবাহনীতে। আর এবার এসেছেন মুক্তিযোদ্ধায়। অবশ্য মুক্তিযোদ্ধায় নাম লেখানোর আগে শেখ জামাল, চট্টগ্রাম আবাহনীর মতো ক্লাবগুলো থেকেও অফার ছিল। কিন্তু খেলাপাগল তৌহিদ মাঠে নিজের পারফরম্যান্স শো করার জন্যই মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবকে বেছে নিয়েছেন। ক্লাব পর্যায়ে প্রায় সব দলের বিপক্ষেই গোল করেছেন। আর জাতীয় দলেও গোল করার রেকর্ড রয়েছে তার। বাবা-মা আর তিন, এক বোনের সংসারে মেজো ছেলে তৌহিদ। পরিবারের কেউই ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত নয়। বাবা চাইতেন না তৌহিদ ফুটবলার হোক, কিন্তু মায়ের আগ্রহেই আজকের অবস্থানে আসা হয়েছে। তবে পরিবারের সবাই এখন বেশ উৎসাহ জোগান। আর তাদের উৎসাহেই অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তৌহিদ।

সকল সংবাদ -খেলার সংবাদ