• শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

‘আন্দোলনে নৃশংসতা ছিল সাবেক সরকারের পরিকল্পিত কৌশল’

আবিদুর রহমান সুমন / ১৩৬ Time View
Update : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

আন্দোলনে নৃশংসতা: সাবেক সরকারের পরিকল্পিত কৌশল

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক মন্তব্য করেছেন, ‘আন্দোলনে নৃশংসতা ছিল সাবেক সরকারের একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত কৌশল, যা ছাত্র-জনতার বিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল।’

জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আন্দোলনের বিষয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে, তাদের সমন্বয় ও নির্দেশনায় শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে ব্যাপক গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘আমরা যে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধও গঠন করতে পারে। জাতীয় নিরাময় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচার অপরিহার্য।’

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির কারণে ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ৪৪ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

আন্দোলনের পটভূমি

বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতার মাধ্যমে। তবে এর গভীরে ছিল প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে উদ্ভূত ব্যাপক ক্ষোভ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার জন্য সাবেক সরকার ধারাবাহিক সহিংস পন্থা অবলম্বন করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছিল।

তদন্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গত সেপ্টেম্বরে একটি দল পাঠায়। এই দলে ছিলেন মানবাধিকার অনুসন্ধানকারী, একজন ফরেনসিক চিকিৎসক এবং একজন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ, যারা প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে, প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিক্ষোভ দমনের জন্য পরিকল্পিত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোসহ দমনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এবং অবৈধভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পঙ্গু করার সঙ্গে জড়িত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম পথ হলো আন্দোলনের সময় সংঘটিত অন্যায়গুলোর সত্য উন্মোচন, নিরাময় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ‘আমার কার্যালয় এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় জবাবদিহি ও সংস্কারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category