অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম ভিত্তি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল অতীতের বেদনাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি এক অবিনাশী প্রেরণার দিন, যা অন্যায়, অবিচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়।
অনুষ্ঠানে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড বিজয়ীদের সনদপত্র ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান অধ্যাপক ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ আন্দোলন কেবল ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ছিল না, বরং এটি স্বাধিকার আন্দোলনের অংশ ছিল। এটি বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির দাবিতে বাঙালির দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতীক।
তিনি বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায়ে আমাদের অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। মাতৃভাষার জন্য জীবন বিসর্জনের এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই চেতনার ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য বিশ্বের সব মাতৃভাষার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও গবেষণা।
মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে ইউনূস বলেন, যে কোনো জাতির ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি তার মাতৃভাষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ যত ভাষাই শিখুক না কেন, মাতৃভাষার সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক কখনোই বিচ্ছিন্ন হয় না।
তিনি আরও বলেন, অনেক অভিবাসী জনগোষ্ঠী নতুন দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও তাদের মাতৃভাষা বদলায় না। দৈনন্দিন জীবনে তারা নতুন ভাষা ব্যবহার করলেও নিজেদের মধ্যে তারা মাতৃভাষায় কথা বলেন, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।
ড. ইউনূস বলেন, যে শহরগুলোতে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি, সেখানে তারা নিজেদের মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। তাদের মাতৃভাষায় সরকারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকেন তাদের ভাষাভাষী পুলিশ সদস্যরাও। তবে শহরের বাইরে গেলে তারা নতুন ভাষার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
সরকার প্রধান বলেন, আজকের এই দিনে আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে সব মাতৃভাষাকে সংরক্ষণ করব। মাতৃভাষার গুরুত্ব কেবল আবেগের জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর রয়েছে গভীর প্রভাব ও সম্ভাবনা। বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।