• শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে দিল্লির বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত

আবিদুর রহমান সুমন / ৯৭ Time View
Update : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সংঘটিত যেকোনো হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) এবং বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫৫তম সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যৌথ পরিদর্শন দল গঠন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ ও সম্ভাব্য অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেয়, অন্যদিকে বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী দলজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।

বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিএসএফ মহাপরিচালক সীমান্তে হত্যা নিরসনের জন্য ‘অ-প্রাণঘাতী’ নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

এবারের সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর সহিংসতা রোধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

  • সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যৌথ টহল বৃদ্ধি।
  • উভয় বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক ও আগাম গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়।
  • সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
  • আর্থসামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ।

সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যৌথ পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং বন্ধ থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য জয়েন্ট ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সম্মেলনে আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন সম্পর্কেও আলোচনা হয়, বিশেষ করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, গবাদিপশু পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, স্বর্ণ ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে উভয় পক্ষ তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে সম্মত হয়।

সীমান্ত আইন লঙ্ঘনজনিত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং উভয় দেশের নাগরিকদের অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম রোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে একমত হয়।

মানবপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। এছাড়া, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সীমান্তবর্তী খাল ও নদীর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়, বিশেষ করে আগরতলা-আখাউড়া সীমান্তের চারটি খালের বর্জ্য পানি অপসারণ এবং জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে রহিমপুর খালের সংযোগ উন্মুক্তকরণের ব্যাপারে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ (CBMP) বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতে যৌথ খেলাধুলা ও যৌথ রিট্রিট সেরিমনি আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category