• বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

গণহত্যাকারীদের বিচার এ দেশে হবেই : ড. ইউনূস

আবিদুর রহমান সুমন / ৪৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫

গণহত্যার বিচার হবে এই দেশের মাটিতেই: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে এবং যারা ইতোমধ্যে হত্যাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তাদের বিচার এ দেশের মাটিতেই সম্পন্ন হবে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ সময় তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত ১ লাখ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুর সঙ্গে ইফতার করেন।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জাতিসংঘ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি পৃথক অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মালয়েশিয়া ও ফিনল্যান্ড এই সম্মেলনের আয়োজনের দায়িত্ব নিচ্ছে, এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী জুলি বিশপকে এই সভায় মুখ্য ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছি, যা তিনি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন।”

জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুতেরেস বাংলাদেশে অবস্থানকালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে সকলে “নতুন বাংলাদেশ” গঠনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় সম্প্রতি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে শেখ হাসিনা সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গত জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, শেখ হাসিনা নিজেই নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন, যার মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। প্রতিবাদী নারীদেরও সহিংস নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এ ধরণের নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি পড়লে শিউরে উঠতে হয়। “একজন নেতা কীভাবে নিজের দেশের নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার পর লাশ লুকানোর নির্দেশ দিতে পারেন? ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি সকল নিষ্ঠুরতার সীমা অতিক্রম করেছেন—এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশ্লেষণেই স্পষ্ট হয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।”

তার বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি—যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিচার অবশ্যই এই দেশের মাটিতেই করা হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category