ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পদত্যাগ করেছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইসরায়েলি চ্যানেল-১২ এর বরাত দিয়ে তেলআবিবের সরকারি সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মোট্রিচের পদত্যাগের ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যদি এ জোট ভেঙে যায়, তাহলে তেলআবিবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে এবং আগাম নির্বাচন হলে নেতানিয়াহু তার প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
পদত্যাগের পর স্মোট্রিচ নেসেটে ফিরে গেছেন এবং এখন তিনি তার নেতৃত্বাধীন অতি-ডানপন্থী ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টির সাধারণ আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করবেন।
জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সঙ্গে নেসেট সদস্য জভি সুক্কোতের পুনর্বহাল নিয়ে বিরোধের মধ্যেই স্মোট্রিচের পদত্যাগপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
স্মোট্রিচের ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টি এক বিবৃতিতে ওটজমা ইয়েহুদিত দলের প্রধান বেন-গভিরকে স্মোট্রিচ ও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ দলের মধ্যে করা রাজনৈতিক চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও নীতিমালা নিয়ে দলগুলোর নেতাদের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। স্মোট্রিচের পদত্যাগ অতি-ডানপন্থী জোটের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভাঙন এবং অসন্তোষ প্রকাশ্যে এনেছে।
প্রসঙ্গত, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিমত করেন জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। এর জেরে তিনি গত জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন। তার সঙ্গে তার দল ওটজমা ইয়েহুদিতের আরও দুই মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছিলেন। পরে মার্চ মাসে নেতানিয়াহু পুনরায় বেন-গভিরকে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
এ ছাড়া, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্ত করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে, ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নেতানিয়াহুর এমন নিয়োগ ও বরখাস্ত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা।